মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

উপজেলা প্রশাসনের পটভূমি

সোনাতলা উপজেলা প্রথম ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে থানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে উপজেলায় রুপান্তরিত হয়। সোনাতলা উপজেলা ১টি পৌরসভা, ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত। অত্র উপজেলা মোট আয়তন ১৫৬.৭৮ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা  ১,৬৭,৫৪৭ জন (২০০১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী)।

 

 

যোগাযোগ ব্যবস্থা

সোনাতলা উপজেলা রেল এবং সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন অংশের সাথে সংযুক্ত। সড়ক পথে বগুড়া হতে বাস, টেম্পো, সি.এন.জি চালিত অটোরিক্সা কিংবা সড়ক পথে পরিচালিত অন্যান্য যানবাহনে সোনাতলা উপজেলায় পৌছানো যায়। বগুড়া শহরের সাতমাথা কিংবা বগুড়া বাস টার্মিনাল হতে সোনাতলাগামী বাসে অথবা সি.এন.জি চালিত অটোরিক্সায় অতি সহজেই সোনাতলা উপজেলায় আসা যায়। এছাড়া রেল পথেও সোনাতলা রেল স্টেশনে আসা যায়। সোনাতলা রেল স্টেশন হয়ে গমনকারী অধিকাংশ মেইল ট্রেন সোনাতলা রেল স্টেশনে যাত্রা বিরতি করে থাকে। যে সকল মেইল ট্রেন সোনাতলা রেল স্টেশনে যাত্রা বিরতি করে তার মধ্যে “লালমনি এক্সপ্রেস‍” অন্যতম।

 

 

জলবায়ুঃ- বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানের মত সোনাতলা উপজেলাও ক্রান্তীয় জলবায়ুর অর্ন্তগত। এখানে ষড়ঋতুর মধ্যে প্রধানত তিনটি মৌসুম জোরালোভাবে পরিলক্ষিত হয়। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শতকরা ৯৩ ভাগ বর্ষণ এ সময়ে হয়। শীত কাল আরম্ভ হয় নভেম্বরে এবং শেষ হয় ফেব্রুয়ারীতে। এখানে বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের চেয়ে শীতকাল প্রায় ১৫ দিন আগে শুরু ও ১৫ দিন পরে শেষ হয়। এ মৌসুম অত্যান্ত শুষ্ক ও শীতল, কখনও কখনও সামান্য বৃষ্টি হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসকে গ্রীষ্ম বা প্রাকবর্ষা কাল বলে গণ্য করা হয়। এ সময় বাতাস খুবই উত্তপ্ত হয় এবং বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমান খুবই কম থাকে। মাঝে মাঝে বর্ষণসহ ঝড় বা দমকা বাতাস বইতে থাকে যাকে কালবৈশাখী বলা হয়। এ সময় কিছু শিলা বৃষ্টিও হয়ে থাকে। এখানে নিম্নতমক তামমাত্রা ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসে পরিলক্ষিত হয় যার গড় প্রায় ১৯.১ সেঃ। চরম উষ্ণ তামমাত্রা মে মাসে ৪৩.৯ সেঃ এবং চরম শীতল তাপমাত্রা ফেব্রুয়ারী মাসে ৩.৯সেঃ পর্যন্ত হতে পারে। শীতকালে গড় বৃষ্টি পাত ৩৯ মিলিমিটার যা ঐ সময় বাষ্পীভবনের পরিমানের চেয়ে অনেক কম। দীর্ঘমেয়াদী পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, বৎসরে শীত মৌসুমে ৪/৫ মাস প্রায় শুষ্ক থাকে। আবার বর্ষা মৌসুমে কোন কোন মাসে মাত্রাধিক বৃষ্টিপাত হয়। নভেম্বর হতে মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের মাসিক হার ৭৫ মিলিমিটারের কম বলে এ মাস গুলোকে শুষ্ক মাস বলা যায়।

 

নৃতাত্ত্বিক দর্শনঃ-      এ এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে অর্ন্তমুখী ও রক্ষণশীল মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। নিতান্তই চাকুরিজীবিরা ছাড়া পেশাগত কারণে এরা বাহিরে দূরে কোথাও যায় না বললেই চলে। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন ও যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণোত্তরকালে এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে বহির্মূখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখানকার মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে সকল ধর্ম ও সকল শ্রেণীর লোক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ন সহাবস্থানে বিশ্বাসী।